💠 বাংলার মধ্যযুগে প্রথম মুসলিম শাসক কে ছিলেন?
ক) ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি
খ) গিয়াসউদ্দিন তুঘলক
গ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ঘ) শের শাহ
উত্তর: ক) ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি
ব্যাখ্যা: ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে গৌড় দখল করেন এবং এটি দিল্লি সালতানাতের অধীনে নিয়ে আসেন। তার শাসন বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও শের শাহ পরবর্তীকালের শাসক, আর আলাউদ্দিন হোসেন শাহ স্বাধীন সুলতানি আমলে শাসন করেন। বখতিয়ারের বিজয় বাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের সূচনা করে।
💠 মধ্যযুগে বাংলার স্বাধীন সুলতানি শাসনের প্রতিষ্ঠাতা কে?
ক) ইলিয়াস শাহ
খ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
গ) হোসেন শাহ
ঘ) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
উত্তর: ক) ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা: ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দিল্লি সালতানাতের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে ইলিয়াস শাহি বংশের প্রতিষ্ঠা করেন। তার শাসনকালে বাংলা একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় লাভ করে। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ তার পুত্র এবং হোসেন শাহ পরবর্তীকালের শাসক। ইলিয়াস শাহের শাসন বাংলার মধ্যযুগীয় স্বর্ণযুগের সূচনা হিসেবে গণ্য হয়।
💠 মধ্যযুগে বাংলার সাহিত্যে কোন ভাষার প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল?
ক) সংস্কৃত
খ) ফারসি
গ) আরবি
ঘ) বাংলা
উত্তর: খ) ফারসি
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর ফারসি ভাষা প্রশাসন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে। সুলতানি আমলে দরবারি ভাষা হিসেবে ফারসি ব্যবহৃত হতো এবং এটি কবিতা, ইতিহাস ও ধর্মীয় গ্রন্থ রচনায় প্রভাব ফেলে। আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে ফারসি সাহিত্যের পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যও উৎসাহ পায়। সংস্কৃত প্রাচীন যুগে প্রভাবশালী ছিল, আর আরবি মূলত ধর্মীয় ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল।
💠 কোন মধ্যযুগীয় শাসক বাংলায় হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন?
ক) ইলিয়াস শাহ
খ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
গ) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ঘ) নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
উত্তর: খ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা: আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৩-১৫১৯) তার শাসনকালে হিন্দু-মুসলিম সংস্কৃতির এক অনন্য সমন্বয় সাধন করেন। তিনি হিন্দুদের প্রতি সহনশীল নীতি গ্রহণ করেন এবং বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার আমলে কৃষ্ণদাস কবিরাজের মতো কবি ও সাহিত্যিকরা সমর্থন পান। হোসেন শাহের শাসন বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি সুবর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্য শাসকরা এতটা সমন্বয়মূলক নীতি গ্রহণ করেননি।
💠 মধ্যযুগে বাংলার অর্থনীতিতে কোন শিল্পের প্রভাব সবচেয়ে বেশি ছিল?
ক) তাঁত শিল্প
খ) জাহাজ নির্মাণ
গ) ধাতব শিল্প
ঘ) মৃৎশিল্প
উত্তর: ক) তাঁত শিল্প
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগে বাংলার অর্থনীতিতে তাঁত শিল্প, বিশেষ করে মসলিন কাপড়ের উৎপাদন, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ঢাকার মসলিন বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছিল এবং এটি ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রপ্তানি হতো। সুলতানি আমলে এই শিল্প বাণিজ্য ও সমৃদ্ধির প্রধান উৎস ছিল। জাহাজ নির্মাণও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, বিশেষ করে চট্টগ্রামে, কিন্তু তাঁত শিল্পের মতো ব্যাপক প্রভাব ফেলেনি। ধাতব শিল্প ও মৃৎশিল্প তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
💠 মধ্যযুগে বাংলার প্রথম রাজধানী কোনটি ছিল?
ক) গৌড়
খ) পাণ্ডুয়া
গ) সোনারগাঁও
ঘ) লক্ষ্ণৌতি
উত্তর: ক) গৌড়
ব্যাখ্যা: গৌড় মধ্যযুগে বাংলার প্রথম রাজধানী হিসেবে পরিচিত, যেখানে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে তার শাসনকেন্দ্র স্থাপন করেন। এটি প্রাচীনকাল থেকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। পরবর্তীকালে পাণ্ডুয়া ও সোনারগাঁও রাজধানী হিসেবে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু গৌড়ই মুসলিম শাসনের প্রাথমিক কেন্দ্র ছিল। লক্ষ্ণৌতি গৌড়েরই একটি অংশ বা বিকল্প নাম হিসেবে বিবেচিত হয়।
💠 কোন মধ্যযুগীয় শাসক বাংলায় মুদ্রা প্রচলনের জন্য বিখ্যাত?
ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
খ) ইলিয়াস শাহ
গ) হোসেন শাহ
ঘ) শামসউদ্দিন ইউসুফ শাহ
উত্তর: ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা: গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৮৯-১৪১১) ইলিয়াস শাহি বংশের একজন বিখ্যাত শাসক, যিনি বাংলায় মুদ্রা প্রচলনের জন্য পরিচিত। তার শাসনকালে রৌপ্য টাকা প্রচলিত হয়, যা বাণিজ্য ও অর্থনীতির প্রসারে সহায়ক ছিল। তিনি বিদেশি বণিকদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করেন এবং সাংস্কৃতিক পৃষ্ঠপোষকতাও করেন। অন্য শাসকরাও মুদ্রা প্রচলন করেছিলেন, কিন্তু গিয়াসউদ্দিনের মুদ্রা ব্যাপকভাবে গৃহীত ও প্রভাবশালী ছিল।
💠 মধ্যযুগে বাংলার কোন স্থাপত্য শৈলী সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ছিল?
ক) হিন্দু-বৌদ্ধ শৈলী
খ) ইসলামি স্থাপত্য
গ) বাঙ্গালী কুটির শৈলী
ঘ) মুঘল শৈলী
উত্তর: খ) ইসলামি স্থাপত্য
ব্যাখ্যা: মধ্যযুগে বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর ইসলামি স্থাপত্য শৈলী প্রাধান্য লাভ করে। মসজিদ, মাদ্রাসা ও সমাধিসৌধে গম্বুজ, মিনার ও খিলানের ব্যবহার এই শৈলীর বৈশিষ্ট্য। পাণ্ডুয়ার আদিনা মসজিদ এবং গৌড়ের ফিরোজ মিনার এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। হিন্দু-বৌদ্ধ শৈলী প্রাচীন যুগে প্রচলিত ছিল, আর মুঘল শৈলী পরবর্তীকালে আসে। বাঙ্গালী কুটির শৈলী স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হলেও রাজকীয় স্থাপত্যে কম ব্যবহৃত হয়।
💠 কোন যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলা মধ্যযুগে মুঘল শাসনের অধীনে আসে?
ক) পানিপথের প্রথম যুদ্ধ
খ) গড়পড়ার যুদ্ধ
গ) রাজমহলের যুদ্ধ
ঘ) ভেরুয়ার যুদ্ধ
উত্তর: গ) রাজমহলের যুদ্ধ
ব্যাখ্যা: রাজমহলের যুদ্ধ (১৫৭৬) এর মাধ্যমে মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মান সিং বাংলার শেষ স্বাধীন সুলতান দাউদ খান কাররানিকে পরাজিত করেন। এই যুদ্ধের পর বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে চলে আসে। পানিপথের প্রথম যুদ্ধ (১৫২৬) মুঘল শাসনের সূচনা করে, কিন্তু বাংলার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। গড়পড়া ও ভেরুয়ার যুদ্ধ অন্য প্রেক্ষাপটে সংঘটিত হয়। রাজমহলের যুদ্ধ বাংলার মধ্যযুগীয় ইতিহাসের সমাপ্তি ঘটায়।
💠 মধ্যযুগে বাংলার কোন বন্দর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
ক) চট্টগ্রাম
খ) সোনারগাঁও
গ) সাতগাঁও
ঘ) তাম্রলিপ্ত
উত্তর: ক) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা: চট্টগ্রাম মধ্যযুগে বাংলার প্রধান বন্দর হিসেবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্তুগিজ, আরব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বণিকরা এখানে বাণিজ্য করত। সুলতানি ও মুঘল আমলে এটি জাহাজ নির্মাণ ও রপ্তানির কেন্দ্র ছিল। সাতগাঁওও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু পরে এর প্রভাব কমে যায়। সোনারগাঁও অভ্যন্তরীণ কেন্দ্র এবং তাম্রলিপ্ত প্রাচীন যুগে প্রভাবশালী ছিল। চট্টগ্রামের অবস্থান এটিকে বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র করে তোলে।
Comments
Post a Comment